মুলাদী প্রতিনিধি
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাংলাবাজার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা ও তার সহযোগীদের হামলায় চাচা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন ঢালী (৫৫)।
হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর আনোয়ার হোসেন ঢালীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সোমবার (১ জানুয়ারি) রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন ঢালী দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হাচেন ঢালীর ছেলে। তার বড় ভাই মোস্তফা ঢালীর ছেলে ইমরান ঢালী লোকজন নিয়ে চাচা আনোয়ারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভায়রা ভাই রেজাউল করিম সরদার বাদী হয়ে ওইদিন গভীর রাতে ইমরান ঢালীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মুলাদী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইমরান ঢালী, মোস্তফা ঢালী, আবু হাওলাদার ও আবুল ফজল রমজান নামের এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতের পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার ঢালীর একটি জমি তার বড়ো ভাই মোস্তফা ঢালী ও তার ছেলে ইমরান ঢালী জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে। রোববার দুপুরে আনোয়ার ঢালী ওই জমি ছেড়ে দিতে বলেন এবং জমিতে ধান চাষ করার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে মোস্তফা ঢালীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিকেলে আনোয়ার ঢালী নিজের পান বরজ থেকে পান তুলে বাংলাবাজারে বিক্রি করতে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইমরান ঢালীর নেতৃত্বে ৭-৮ জনে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাংলাবাজারে আনোয়ার ঢালীর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে চলে যায়। পরে বাজারের লোকজন আনোয়ার ঢালীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার (আনোয়ার) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দুইটার দিকে আনোয়ার হোসেন ঢালীর মৃত্যু হয়।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




