লেখক: জনতা বাণী

  • লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা রয়্যাল গ্রিনের দায়িত্বে হাসান মাহমুদ ও সাইফুল ইসলাম

    লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা রয়্যাল গ্রিনের দায়িত্বে হাসান মাহমুদ ও সাইফুল ইসলাম

    বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের অধীনে পরিচালিত লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা রয়্যাল গ্রিনের ২০২৫-২০২৬ সেশনের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।  

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান লিংক রোডের নাভানা এইচআর টাওয়ারে ক্লাবের চার্টার্ড মেম্বার এবং জেনারেল সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এ কমিটি গঠিত হয়।  

    এতে সভাপতি পদে দৈনিক যুগান্তরের ম্যানেজার (সার্কুলেশন) লায়ন আবুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে এজি অটোমোবাইলস লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (আফটারসেলস) লায়ন সাইফুল ইসলাম সুমন নির্বাচিত হয়েছেন।

    এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে আল মোদিনা ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস প্রোপ্রাইটর লায়ন এনামুল হক মাসুম নির্বাচিত হয়েছেন।  

    এদিকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রিজিয়ন চেয়ারপারসন (প্রজেক্ট অ্যান্ড ক্লাব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) লায়ন নজরুল ইসলাম।

    অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বর্তমান ক্লাব সভাপতি লায়ন মিল্লাত হোসেন মিল্টন, ক্লাব সেক্রেটারি লায়ন কামাল পাটোয়ারী ও ক্লাব ট্রেজারার লায়ন মোহাম্মদ সফিকুল্লাহ।

  • নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

    নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সরকার দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো দল তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার একটি জবাবদিহিমূলক সরকার, দরকার একটি নির্বাচিত সরকার। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে মনে হয় এরই মধ্যে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

    বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সঞ্চালনায় তারুণ্যের সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

  • ১৩৯ সচিব-ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা দিল জুলাই ঐক্য

    ১৩৯ সচিব-ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা দিল জুলাই ঐক্য

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের দোসর হয়ে প্রশাসনে অনেকেই কাজ করছেন- এমন দাবি করেছে জুলাই ঐক্য। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এ প্ল্যাটফরম এরই মধ্যে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ৪৪ সচিব এবং ৯৫ ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের এসব কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন সচিবের কাছে এ তালিকা তুলে দেওয়া হবে বলেও জানায় জুলাই ঐক্য। এ বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সে অনুযায়ী পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা। সচিবদের মধ্যে রয়েছেন পানি সচিব নাজমুল হাসান, পরিবেশ সচিব ফারহানা আহমেদ, কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ইব্রাহিমসহ ৪৪ জন। যাদের সবাই কর্মরত। জুলাই আন্দোলনে শহীদ মুনতাছির রহমান আরিফের বাবা গাজিউর রহমান তালিকা প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে ফ্যাসিবাদীর বিলুপ্তি চেয়েছিল। চেয়েছিলাম একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, দেশ ভালো চলবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে যারা ইন্ধন দিয়েছে, তারা এখনো বহাল তবিয়তে। আমরা যে মামলা করেছি, তার একজন অপরাধীকেও ধরা হয়নি। না ধরলে বিচার কীভাবে হবে। উল্টো আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা হত্যা করেছে তারাই আবার এ ঘটনার তদন্ত করছে। তাহলে কীভাবে সত্য উদ্ঘাটন হবে? কীভাবেই বিচার হবে? আমরা জানি এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা বহাল রয়েছেন। জুলাই ঐক্যের নেতা প্লাবন তারিক বলেন, আওয়ামী লীগের সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এসব সচিবরা। আওয়ামী লীগ সরকার সুযোগ দিয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, একজন সচিব নাজমুল আহসান একসময় সাতক্ষীরার ডিসি ছিলেন, তার নির্দেশে অনেক মানুষের বাড়িঘর ভেঙেছেন। তিনি কট্টর আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা কিন্তু বহাল তবিয়তে আছেন। সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব মফিউর রহমান মুজিব শতবর্ষের সময় বই লেখেন। তিনি বানোয়াট গল্প লিখে তাবেদারি করেছেন। তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠলেও বর্তমান সরকার তা শোনেনি। এ ধরনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, সেসব কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপরে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তালিকা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদে সিস্টেম দাঁড় করাতে সব ক্ষেত্রের কর্মকর্তাদের দরকার হয়েছিল। তাদের তালিকা আমরা প্রকাশ করেছি। আমরা ঝুঁকি নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করছি। জুলাই আন্দোলনকে ব্যর্থ হতে দেব না। উজ্জ্বল কুমার হালদার, অমিত কুমার সাহা, শামসুজ্জামান কনক, জিসান, আফরিন জাহানসহ ৯৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।’

    এ সময় সরকারের কাছে কিছু দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো- ১. আগামী ৩১ মের মধ্যে তালিকায় থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের বাধ্যতামূলক অবসর দিতে হবে। ২. তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি দেশের জনগণকে দেখাতে হবে। ৩. দেশের তথ্য পাচারকারী, ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালানো, নির্দেশকারী এবং সহযোগিতাকারী সব আমলা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিবারসহ সবার ব্যাংক হিসাব ও অবৈধ সম্পদ জব্দ করতে হবে। ৪. স্বৈরাচারের দোসর আমলা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. আগামী ৩৬ জুলাইয়ের (৫ আগস্ট) মধ্যে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত সব স্বৈরাচারের দোসরদের শ্বেতপত্র সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। ৬. আইনের ১৩২ ধারার কারণে থানায় খুনি পুলিশদের নামে মামলা নেওয়া হয় না। আগামী ৩১ মের মধ্যে এ ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করতে হবে। ৭. আগামী ৩১ মের মধ্যে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তারা এখন কোথায় আছেন এবং কতজন কার সহযোগিতায় দেশ ছেড়েছেন তাদের তালিকাও প্রকাশ করতে হবে।

    এর আগে গত ১০ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিকে সামনে রেখে গত ৬ মে ৩৫টি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফরমের সমন্বয়ে জুলাই ঐক্যের আত্মপ্রকাশ হয়। বর্তমান ৮০টি সংগঠন জুলাই ঐক্যের শক্তি। প্ল্যাটফরমটি আত্মপ্রকাশের পর থেকে আওয়ামী নিষিদ্ধের দাবিতে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করে জুলাই ঐক্য।

  • সংস্কৃতি চর্চায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ জরুরি কেন?

    সংস্কৃতি চর্চায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ জরুরি কেন?

    ড. আরিফ হায়দার

    মানুষ জন্ম থেকেই কাঁদতে শেখে, আর হাসতে শেখে অনেক পরে। কিন্তু জন্মের সময় সে নিজে কাঁদলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটায় পৃথিবীর আলো দেখা মানুষটি। এখন আমরা কাঁদতে শিখেছি, এবার হাসতে চাই।

    পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারে তার ইতিহাস। সংস্কৃতিই বাঁচিয়ে রাখতে পারে তার দেশকে।

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই সমকালীন সমাজ নিয়ে- সমাজের মূল্যবোধ অবক্ষয়, মানুষের হতাশা বঞ্চনাকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতির চর্চা করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের পথ খুঁজতে হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চার।

    আমাদের সবারই জানা শিল্প- সংস্কৃতির আলোচনায় ঢাকা সর্বদাই প্রাধান্য পেয়ে আসছে শুরু থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চা মানেই শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয় তা হয়তো আমরা ভুলেই গেছি। ঢাকার বাইরে যারা সংস্কৃতি চর্চা করে তাদের মূল্য কতটুকু?

    আমাদের ঐতিহ্য- লেটো গান, আলকাপ, গম্ভীরা, নছিমনের গান, বিষহরি সঙ, যাত্রা এমনও হাজার ঐতিহ্যের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু উদাহরণ দিয়ে লাভ কী? তারা কি বর্তমানে বেঁচে আছে, না মরে গেছে, সে খবর ক’জন রাখেন!

    অথচ সংস্কৃতি ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে গালভরা উচ্চারণ করে নামগুলো বলে থাকি। আজ অর্থের অভাবে বিলুপ্তপ্রায় আমাদের সংস্কৃতি। এখনো সময় আছে ফিরিয়ে আনার। তবে একমাত্র ফিরিয়ে আনার হাল ধরতে পারে রাষ্ট্র।

    স্বাধীন বাংলাদেশের অনেকগুলো মন্ত্রণালয় আছে। তার মধ্যে যে মন্ত্রণালয়টি সংস্কৃতি অঙ্গনের হাল ধরতে পারে সেটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই ২০২৪-২০২৫ সালের অর্থ বরাদ্দের একটি মোটা অংশ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

    যদি বলি ‘সংস্কৃতি হোক জনগণের ইতিহাস রচনায় বিশ্বাসী’ তবে অতীতে যেমন বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। আমাদের জানা অতীতে ০.০৯ শতাংশ থেকে ০.১৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হতো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এই বরাদ্দের নাম “বিনোদন সংস্কৃতি ও ধর্ম খাত”।

    এমনতর বরাদ্দ সংস্কৃতি অঙ্গনে কোনো সুস্থ কাজ করা সম্ভব নয়। সরকারকে ভাবতে হবে বাংলাদেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে সংস্কৃতির অবকাঠামো।

    পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারে তার ইতিহাস। সংস্কৃতিই বাঁচিয়ে রাখতে পারে তার দেশকে।

    প্রথমেই বলা যেতে পারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিনোদনের শাখাগুলো আছে- সেখানে কত শতাংশ বরাদ্দ দিলে সুস্থভাবে কাজ করা সম্ভব।

    তারপর যাত্রা দল, নাট্যদল, সংগীত দল, নৃত্যের দল থেকে আরম্ভ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, নজরুল একাডেমী, বাংলা একাডেমী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ, সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ, চারুকলা বিভাগ থেকে শুরু করে সংস্কৃতি চর্চারত অনেক দল কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্য কত বরাদ্দ হওয়া জরুরি?

    এসব নিয়ে একটা জরিপ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে হবে, কত শতাংশ বরাদ্দ দিলে বাংলাদেশের সংস্কৃতিচর্চায় উন্নয়ন ঘটবে এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো আবার ফিরে আসবে। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে পুতুল নাচ, যাত্রাপালা, গ্রামীণ খেলাধুলা, অষ্টক, ঘাটু বা গাঁডু গান, গম্ভীরা, ছোকরা নাচ ইত্যাদি।

    আর মেলার কথা নাই বললাম। দেশের ৬৪ জেলায় আলাদা মেলার প্রচলণ ছিল। এইসব মেলা বিস্তার লোকজ মোটিফকে কেন্দ্র করে। সেইসব মেলার গল্প আমরা শহুরে লোকজন জানি না। এগুলো যে গবেষণার অংশ, সংস্কৃতির অংশ তা যেন সবাই দেখিয়ে দিতে হয়।

    এখন বলা যেতেই পারে বর্তমান সরকার সংস্কৃতির দিকে ফিরে তাকাবেন। অন্তত বৃহদাংশ সংস্কৃতি চর্চার জন্য বরাদ্দ করবেন এমনটাই দাবি সংস্কৃতি কর্মীদের।

    মানুষ বাঁচতে চায় একটু আশা নিয়ে। যে আশাটুকু লুকিয়ে আছে নকশী কাঁথার সেলাইয়ের মধ্যে আলাদা রঙিন সুতায়। যেমন গেঁথেছে ঠিক তেমনি করে এক সুতায় বাঁচতে চায় আমাদের সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চাইলেই পারে প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে তার সংস্কৃতির মান ফিরে আনতে।

    যদি বলি যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগ, সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ, চারুকলা বিভাগ চলমান সেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে প্রতিটি বিভাগের কাছ থেকে উৎসব ভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়-যেখানে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ থাকবে, অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, কলাকুশলীরাও থাকবেন।

    সংস্কৃতি ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে গালভরা উচ্চারণ করে নামগুলো বলে থাকি। আজ অর্থের অভাবে বিলুপ্তপ্রায় আমাদের সংস্কৃতি।

    অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে আরম্ভ করে শিল্পকলার সব শাখায় পদচারণা করতেই পারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

    তাহলে আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারব সংস্কৃতি চর্চার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম তৈরি হবে তাকে জানতে হবে একটি শিশুর মৌলিক চাহিদা কী?

    সংস্কৃতি চর্চা ছাঁচে বেঁধে হয় না। চায় তার স্বাধীনতা। উন্মুক্ত করতে হবে সব সংস্কৃতি চর্চার। প্রয়োজন মনের শক্তি। প্রয়োজন স্বায়ত্তশাসন। তাই দরকার বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

    প্রতিটি জেলায় প্রয়োজন সংস্কৃতি চর্চার আর্কাইভ। যেখানে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে তার দেশের ইতিহাস। এখানে একটা কথা পরিষ্কার যে, অর্থ দিয়ে কখনো শিল্পী-শিল্পকে পরিমাপ যায় না। কিন্তু অর্থের প্রয়োজন আছে শিল্পী- শিল্প ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

    সংস্কৃতি বাঁচলে পাল্টে যাবে আমাদের মানসিকতা। এই মানসিকতার পরিবর্তনে যেদিন একটা শিশুর বন্ধু হবে একটি পুলিশ, সেদিনই এই বাংলার মাটিতে ঝরবে না রক্ত।

    এ সময়ের বর্ষায়, ঝড় বৃষ্টিতে ভিজুক মানুষের মন। সবাই মেতে উঠুক উৎসবে। অশুভর মুখোমুখি দাঁড়াতে শিখুক আজকের প্রজন্ম।

    ড. আরিফ হায়দার ।। অধ্যাপক, নাট্যকলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • লোডশেডিং রোধে যা করণীয়

    লোডশেডিং রোধে যা করণীয়

    ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

    যত গরম ঘনিয়ে আসছে, বিদ্যুৎ নিয়ে আলাপচারিতা বেড়ে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তায় অন্তত তিনটি আলোচনা চোখে পড়েছে, অবশ্য চোখের বাইরেও কম আলোচনা হচ্ছে না। আবহাওয়ার সাথে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির যেমন ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, জলবায়ুর সাথেও তেমনি ঘনিষ্ঠতা আছে।

    গরম কেমন পড়বে, তার ওপর নির্ভর করবে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা। যদি গরম বেশি পড়ে, তাহলে এয়ারকুলার বা শীতাতপ যন্ত্রের বিপুল ব্যবহার আশা করা যায়। বেশি গরম অর্থ বেশি এসি, তার অর্থ বেশি বেশি বিদ্যুৎ – একদম ঐকিক সম্বন্ধ।

    জলবায়ুর সাথে সম্পর্কটা একটু ঘুরপথে। বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জীবাশ্ম-জ্বালানির উপর নির্ভর করে। জীবাশ্ম-জ্বালানি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে, এই গ্যাস বাতাসের তাপ-ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে গ্রহকে উষ্ণ করে তোলে। এভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়ে যায়।

    এই উষ্ণায়ন যদি কমাতে বা সীমার মধ্যে রাখতে চান, তাহলে আপনাকে জীবাশ্ম-জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। অতএব, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আপনাকে বিকল্প উৎসের খোঁজ করতে হবে। যেমন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আপনার নিঃসরণকে কমিয়ে দেবে। কিন্তু এমন জ্বালানির শক্তি-ঘনত্ব বা এনার্জি ডেনসিটি অত্যন্ত কম।

    যখন বেশি বেশি ফ্যান চলবে, এসি চলবে, বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। জোগান কম থাকলে তখন কাউকে কাউকে বঞ্চিত থাকতে হবে।

    এত কম শক্তি-ঘনত্বের উৎস নিয়ে উৎপাতও কিন্তু কম নয়। অথচ তুলনায় জীবাশ্মের শক্তি-ঘনত্ব অনেক বেশি, ফলে অল্পতেই চাহিদা মেটে, দ্রুত পরিবহন করা যায়, এক দেশ থেকে আরেক দেশে বয়ে নেওয়া যায় – পাইপে বা জাহাজে – কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না।

    পারদের ওঠানামা, কাজেই, গ্রিড-অপারেটর এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে এটার অর্থ লোডশেডিং। যদি বৈদ্যুতিক লোড বেড়ে যায়, আর উৎপাদন সীমিত থাকে, তাহলে সব লোডকে তো আর সরবরাহ করা যাবে না, তখন কিছু সংযুক্ত লোডকে ছেঁটে ফেলতে হয়, কমিয়ে দিতে হয়, একেই ‘লোডকে শেড করা’ বলে।

    বেশি গরম পড়লেও তা-ই হয়। যখন বেশি বেশি ফ্যান চলবে, এসি চলবে, বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। জোগান কম থাকলে তখন কাউকে কাউকে বঞ্চিত থাকতে হবে।

    বিভিন্ন প্রাক্কলনে এই গ্রীষ্মে লোড বাড়বে ১৮ হাজার থেকে সাড়ে-১৮ হাজার মেগাওয়াট বলে জানা যাচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন দফতর এই প্রাক্কলন করেছেন। এখন এই পুরো লোডকে সরবরাহ করা অসম্ভব নয়, খুবই সম্ভব। আপনাকে তখন সব বিদ্যুৎ-উৎপাদন কেন্দ্রগুলো একত্রে চালাতে হবে। সেটাও কি অসম্ভব? মোটেই না।

    আপনি জ্বালানি দিলেই তারা চলবে, যদি সবগুলো ঠিক থাকে। এমন হতেই পারে কোনো একটি কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলো, তখন সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ত্রুটি মেরামত করে সেগুলো আবার উৎপাদনে যুক্ত হবে। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল জ্বালানি (প্রাইমারি ফুয়েল) গ্যাস ও তেল। কিছুটা কয়লা। খুবই সামান্য পানি-বিদ্যুৎ ও সোলার। ফলে আপনি জ্বালানি মজুদ রাখবেন, আর বিদ্যুৎ তরতরিয়ে তার বেয়ে আপনার গৃহকোণে পৌঁছে যাবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    কিন্তু চাইলেই আপনি তা করবেন কি না, বা যেমন চাই তা-ই পাওয়া যাবে কিনা, কিংবা এগুলো বাস্তবসম্মত কি না – সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। প্রথমেই প্রশ্ন আসবে, এই জ্বালানি কোথায় মিলবে। গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসলেও তা হাল-আমলে সীমিত হয়ে এসেছে। ফলে অনেকখানি তরলায়িত গ্যাস আমাদের কিনতে হচ্ছে।

    জেনারেটর চালানোর তেল আমাদের কিনতে হয়। তেল বা গ্যাস বিদেশ থেকে কিনতে হলে ডলার খরচ করতে হবে। অর্থাৎ, ফেল কড়ি মাখো তেল। যত এসি, তত ডলার। এখন ডলার থাকলে তো সমস্যা ছিল না, সমস্যাটা ওইটাই। বেশি ডলার চলে গেলে কোষাগার খালি হয়ে যাবে। তাছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণও অনেক কষ্টের ব্যাপার।

    তাহলে করণীয় কী? অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। পকেট বুঝে খরচ করতে হবে। যেমন মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘অযাচিত ব্যয় কমিয়ে ও দুর্নীতির লাগাম টেনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো, অদক্ষ ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও সিস্টেম লস কমানো, ক্যাপাসিটি চার্জ কমানো, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সস্তা জ্বালানি অগ্রাধিকার দেওয়া, পিডিবি ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যয় হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সব ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়াসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ (দেশ রূপান্তর, ১৩ এপ্রিল ২০২৫)

    এই পদক্ষেপ অনেকটা সতর্ক গৃহস্বামীর মতো – তিনি খুব সাবধানে পা ফেলছেন, মেপে খরচ করছেন, দিনে দুইবার আইসক্রিম চাইলেও খাচ্ছেন না, আত্মাকে সংবরণ করছেন, ফ্ল্যাটের দুই ঘরে দুইজন দুটি পাখা না চালিয়ে একঘরে দুইজন একটি পাখায় বাতাস খাচ্ছেন ইত্যাদি। এটা একটি পরিপক্ব গৃহকর্তার উদাহরণ। গুড গভর্নেন্সও বটে। বাজে খরচ কমিয়ে, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সামান্য লোডশেডিং সহ্য করে বৃহত্তর লক্ষ্যে কাজ করা।

    একথা ঠিক – আপনি চাইলেই তেল পুড়িয়ে দামি বিদ্যুৎ-সুবিধা অর্জনের চেয়ে আপনি কিছুটা কষ্ট করে খরচ ন্যূনতম রাখলেন। বিলাসিতায় গা না ভাসিয়ে আপনি সামলে চললেন। ফলে একই ঢিলে আপনি একাধিক পাখি মারতে পারলেন – আপনি সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিলেন, দাম না বাড়িয়েই; আবার ভর্তুকিতেও হাত দেওয়া লাগল না, যতটুকু আছে ততটুকুই থাকুক। ভর্তুকি ওঠানোর মুদ্রা তহবিলের চাপের মুখে এটা অত্যন্ত প্রাজ্ঞ পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছে।

    …তেল বা গ্যাস বিদেশ থেকে কিনতে হলে ডলার খরচ করতে হবে। অর্থাৎ, ফেল কড়ি মাখো তেল। যত এসি, তত ডলার। এখন ডলার থাকলে তো সমস্যা ছিল না, সমস্যাটা ওইটাই। বেশি ডলার চলে গেলে কোষাগার খালি হয়ে যাবে।

    তারপরও যদি লোডশেডিং করতে হয়, তাহলে এটা হোম-ম্যানেজমেন্টের হাতে ছেড়ে দিন। ঘরে ঘরে বার্তা পাঠান – দুই ঘরে আলাদা আলাদা এসি না চালিয়ে সম্ভব হলে এক ঘরে এক এসিতে চারজন কাজ করুন, একই কথা ফ্যানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কাজ না থাকলে বাতি নিভিয়ে রাখুন।

    কারখানায় যান্ত্রিক দক্ষতা বাড়ান, ভবনের নকশা এমন করুন যাতে স্বাভাবিক আলো ও বাতাস বয়, সার্বিকভাবে জ্বালানি-দক্ষতার প্র্যাকটিস করুন, ইজিবাইক চার্জিং ব্যবস্থাকে বিলের আওতায় আনুন, দেশি কয়লা ব্যবহারের ব্যবস্থা করুন, সৌরশক্তি দিয়ে কৃষিখেতে সেচ করুন, ডিমের ইনকুবেশন এবং শস্য ও ফসলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে সোলারের ব্যবহার বাড়ান। ছোট ছোট কাজে শক্তির দক্ষ প্রয়োগ হলে দিনশেষে লোডশেডিং লাগবে না।

    ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ।। পরিচালক, জ্বালানি ও টেকসই গবেষণা ইন্সটিটিউট; অধ্যাপক, তড়িৎকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

  • বিদেশি বিনিয়োগ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও আসন্ন বাজেট

    বিদেশি বিনিয়োগ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও আসন্ন বাজেট

    ড. সুজিত কুমার দত্ত

    আসন্ন বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সুস্পষ্ট চিত্র। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাজেট আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এমন এক সময়ে প্রণীত হচ্ছে যখন আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ ফেলেছি। এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি অপরিহার্য।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। পোশাক শিল্প আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। তবে, একটি টেকসই ও বহুমুখী অর্থনীতির জন্য আমাদের অবশ্যই বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে।

    বিদেশি বিনিয়োগ কেবল নতুন নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না বরং উন্নত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ এবং পর্যটনের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

    এই খাতগুলোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি, আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের রয়েছে তরুণ ও উদ্যমী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, উর্বর কৃষি জমি, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

    বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। এই সম্পদগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা কেবল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণই করতে পারি না বরং টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতেরও ভিত্তি স্থাপন করতে পারি। আসন্ন বাজেটে এমন কিছু নীতি ও প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যা এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে সহায়ক হবে।

    প্রথমত, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদ্যমান, আইনি কাঠামো সুস্পষ্ট ও প্রয়োগযোগ্য, এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ।

    আসন্ন বাজেটে কর কাঠামোকে যৌক্তিকীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এক জানালা সেবা (One-Stop Service) নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ (Tax Holiday) এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা যেতে পারে।

    বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের রয়েছে তরুণ ও উদ্যমী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, উর্বর কৃষি জমি, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

    বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Special Economic Zones – SEZ) এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর (Export Processing Zones – EPZ) কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা উচিত। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

    একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নিরাপদে তাদের পুঁজি বিনিয়োগের সাহস জোগায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

    যখন কোনো দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, তখন বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে ভোগে এবং নতুন বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব আরও বেশি।

    আমাদের একটি দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে, তবে মাঝে মাঝেই রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের পূর্বে এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ঘন ঘন রাজনৈতিক সংঘাত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নীতিগত পরিবর্তন তাদের মধ্যে আস্থার অভাব তৈরি করে। ফলস্বরূপ, অনেক সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রস্তাব আলোর মুখ দেখার আগেই বাতিল হয়ে যায় অথবা স্থগিত হয়ে পড়ে।

    দ্বিতীয়ত, আমাদের জাতীয় সম্পদগুলো কৌশলগতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ‘নীল অর্থনীতি’ (Blue Economy) একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে মৎস্য সম্পদ, খনিজ সম্পদ, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ এবং সমুদ্র পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র বিদ্যমান।

    বাজেটে সমুদ্র গবেষণা, সমুদ্র তীরবর্তী অবকাঠামো উন্নয়ন (বন্দর, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র) এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণের টেকসই প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই সম্ভাবনাময় খাতে আকৃষ্ট করার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রণোদনা প্রদান করা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং বিদ্যমান বন্দরগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা যেতে পারে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।

    তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো আমাদের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি। তুলনামূলকভাবে কম মজুরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দিক হলেও, কেবল এর ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। আসন্ন বাজেটে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন, শিল্প খাতের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে আমরা একটি দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মীবাহিনী তৈরি করতে পারি। উন্নত কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আরও আগ্রহী হবেন।

    চতুর্থত, আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার অপার সম্ভাবনা রাখে। আসন্ন বাজেটে পর্যটন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে (যোগাযোগ ব্যবস্থা, হোটেল, রিসোর্ট), ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ এবং পর্যটন শিল্পের প্রচার ও প্রসারে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা উচিত।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা, যেমন ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব। আমাদের মনোরম আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যও বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি আকর্ষণ।

    পঞ্চমত, বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বঙ্গোপসাগর এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। আসন্ন বাজেটে এই ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে (সড়ক, রেলপথ, নৌপথ) বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটগুলোর সাথে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লজিস্টিক সুবিধা তৈরি করবে। গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য স্থলবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা, যেমন ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

    ষষ্ঠত, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সহজ ব্যবসার পরিবেশ’ একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। বিশ্ব ব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সন্তোষজনক নয়। আসন্ন বাজেটে ব্যবসা শুরু করা, লাইসেন্স ও অনুমতি পাওয়া, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণ সুবিধা, কর পরিশোধ এবং দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা থাকা প্রয়োজন। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবাগুলো আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করে তোলা যেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের সাথে নিয়মিত সংলাপ এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাও জরুরি।

    সপ্তমত, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এখন পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই বিনিয়োগের ওপর জোর দেন। আসন্ন বাজেটে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট নীতি ও প্রণোদনা থাকা উচিত। পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপন এবং সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

    অন্যদিকে, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আসন্ন বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা থাকা প্রয়োজন। একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করবে।

    পরিশেষে বলা যায়, আসন্ন বাজেট বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যদি আমরা বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারি। আমাদের জাতীয় সম্পদ, কৌশলগত অবস্থান এবং অন্যান্য সুবিধাগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য দূরদর্শী নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই অর্জন করতে পারব না বরং একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ করতে সক্ষম হব। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসি, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

    ড. সুজিত কুমার দত্ত ।। অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
    datta.ir@cu.ac.bd

  • যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই: ইতিহাস ও মানবতার পক্ষের আহ্বান

    যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই: ইতিহাস ও মানবতার পক্ষের আহ্বান

    ড. মো. রফিকুল ইসলাম

    ‘আজ যত যুদ্ধবাজ দেয় হানা হামলাবাজ

    আমাদের শান্তি-সুখ করতে চায় লুঠতরাজ

    জোটবাধো তৈরি হও যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই,

    তোলো আওয়াজ তোলো আওয়াজ…’

    —সুবীর পান্ডের কথা আর সলিল চৌধুরী সুরে এই গান কেবল কাব্যিক উচ্চারণ নয় বরং এটি বিশ্বশান্তির পক্ষে মানবতার এক চিরন্তন ঘোষণা। গীতিকার এই আহ্বান জানিয়েছিলেন যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে আমরা দেখতে পাই, যুদ্ধে জয় থাকলেও মানবতা বারবার পরাজিত হয়েছে।

    ১৮৫৯ সালে ইতালির সলফেরিন নামক স্থানে সংঘটিত যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে একজন সুইস নাগরিক হেনরি ডুনান্ট (Henry Dunant) গভীরভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন। আহত ও রক্তাক্ত সৈনিকদের আহাজারি তার মানবিকতাকে নাড়া দেয়। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে তিনি আহতদের সেবা করতে এগিয়ে আসেন।

    তিনি শুধু তৎকালীন একটি যুদ্ধের জন্য দায়বদ্ধ থাকেননি; তিনি চাইতেন ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলোও যেন মানবিক ন্যূনতম নিয়মের মধ্যে থাকে। এই চিন্তা থেকেই তিনি লেখেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘A Memory of Solferino’, যেখানে যুদ্ধের সময় আহতদের সেবা ও সাধারণ মানুষের রক্ষা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন।

    ডুনান্টের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় International Committee of the Red Cross (ICRC) এবং ১৮৬৪ সালে প্রণীত হয় ঐতিহাসিক জেনেভা কনভেনশন, যা আজও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যুদ্ধকালীন সময়ে অনুসরণ করে। এই আইন অস্ত্রধারী পক্ষগুলোর মানবতা রক্ষায় ন্যূনতম সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়।

    এমনই আরেকটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত রেখেছেন সম্রাট অশোক। কলিঙ্গ যুদ্ধের বিভীষিকা, রক্তপাত ও মানবিক বিপর্যয় দেখে তিনি তার তরবারি ফেলে দেন, সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা ত্যাগ করে গ্রহণ করেন শান্তির বুদ্ধবাদী পথ। তিনি উপলব্ধি করেন—যুদ্ধ মানেই রক্ত, কান্না, ধ্বংস; আর শান্তিই প্রকৃত শক্তির প্রকাশ।

    ইতিহাস এমন অনেক উদাহরণে ভরপুর, যেখানে মানুষ যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা দেখে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সভ্যতার বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে যুদ্ধ—যা ধ্বংস আনে, সভ্যতা পেছনে ফেলে, মানবতাকে ক্ষতবিক্ষত করে। যুদ্ধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে না, বরং ঘরে ঘরে শোক ও সহিংসতার উত্তরাধিকার রেখে যায়।

    যুদ্ধকে আমরা কীভাবে দেখি?

    যুদ্ধ—এই শব্দটি একদিকে যেমন বীরত্ব ও প্রতিরোধের চিত্র আঁকে, তেমনি অন্যদিকে এর অর্থ দাঁড়ায় রক্তপাত, ধ্বংস, কান্না আর মানবিক বিপর্যয়। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় যুদ্ধ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে থেকেছে; কখনো রাজাদের অযৌক্তিক লালসার ফল, কখনো শাসকদের দমননীতি প্রতিহত করতে জনগণের প্রতিরোধ—প্রতিবিপ্লব হিসেবে।

    আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, দেখব অধিকাংশ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে রাষ্ট্র দখল, সীমানা প্রসারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কিংবা ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় হিংসা চরিতার্থ করার জন্য। কালের প্রবাহে ধর্মও হয়ে উঠেছে যুদ্ধের এক বড় উপলক্ষ।

    ১৮৬৪ সালে প্রণীত হয় ঐতিহাসিক জেনেভা কনভেনশন, যা আজও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যুদ্ধকালীন সময়ে অনুসরণ করে। এই আইন অস্ত্রধারী পক্ষগুলোর মানবতা রক্ষায় ন্যূনতম সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়।

    ধর্মের নামে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা, মতবাদের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি কিংবা মানুষকে জোর করে নির্দিষ্ট ধর্মমতে পরিচালিত করার জন্য অসংখ্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ইতিহাসে নথিভুক্ত রয়েছে। মানবসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ও শিল্পবিপ্লবের পর মানুষ আশাবাদী হয়েছিল যে, যুক্তিবাদ, মানবতা ও সভ্যতা মানুষকে যুদ্ধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে শান্তির পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যুদ্ধ থামেনি বরং তার ধরন পাল্টেছে।

    বিশেষ করে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো বহু সময় নিজেদের নীতিমালা, আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে বা কথিত সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে বহু দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও সংঘাত সংঘটিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া ইত্যাদি তার নির্মম উদাহরণ।

    বর্তমান বাস্তবতায় যুদ্ধের প্রকৃতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক দেশে ক্ষমতা দখল ও তা ধরে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী ধর্ম, জাতীয়তাবাদ বা জাতিগত পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ তৈরি হচ্ছে—যেখানে একপক্ষ শাসনের নামে দমন করে, অন্যপক্ষ প্রতিরোধের নামে অস্ত্র তুলে নেয়।

    এছাড়াও ডানপন্থী, বামপন্থী ও উদারপন্থীদের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব, মতবাদগত সংঘর্ষ এখন আর কেবল রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই—তা সমাজের গভীরে বিভাজন তৈরি করছে এবং মানবজাতিকে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যেতে দিচ্ছে না। অতএব, যুদ্ধকে কেবল ভূখণ্ড বা অস্ত্রের সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে হবে না। এটি ক্ষমতার, আধিপত্যের, এবং মতবাদের সংঘর্ষ—যা দিনশেষে মানুষেরই জীবন বিপন্ন করে, সমাজকে করে ক্ষতবিক্ষত।

    শান্তি কী? শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়

    শান্তি—এই শব্দটি আমাদের সবার কাম্য, কাঙ্ক্ষিত ও আকাঙ্ক্ষিত। প্রত্যেক মানুষই চায় শান্তিতে বসবাস করতে, নিরাপদে বাঁচতে, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শান্তি মানে আসলে কী? শান্তি অধ্যয়নের অন্যতম পুরোধা, নরওয়েজীয় সমাজবিজ্ঞানী জোহান গালতুং (Johan Galtung) শান্তিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন একটি নেতিবাচক ও ইতিবাচক দ্বৈত পরিপ্রেক্ষিতে। তার মতে, শান্তির একটি মাত্রা হলো সংঘাত, সহিংসতা, যুদ্ধ ও মানবতা-বিরোধী কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতি—একে তিনি বলেন নেগেটিভ পিস বা নেতিবাচক শান্তি। অর্থাৎ যেখানে মারামারি নেই, সহিংসতা নেই, সশস্ত্র সংঘাত নেই—সেখানে একধরনের বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। কিন্তু গালতুং এও বলেন, সংঘাতের অনুপস্থিতি মানেই প্রকৃত শান্তি নয়।

    প্রকৃত শান্তি আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। এটি কেবল যুদ্ধ না থাকাকে বোঝায় না, বরং এটি একটি ইতিবাচক সামাজিক অবস্থা, যেখানে মানুষ ন্যায়, মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে জীবনযাপন করতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বলা হয় পজিটিভ পিস বা ইতিবাচক শান্তি। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন (Amartya Sen) শান্তিকে কেবল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি শান্তিকে দেখেছেন ক্ষুধামুক্তি, দারিদ্র্যমুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা এবং মানবিক বিকাশের সুযোগ হিসেবে। তার মতে, যেখানে মানুষ নিজের চাহিদা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে—সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে শান্তিপূর্ণ।

    একইভাবে, সমাজবিজ্ঞানী জন বার্টন (John Barton) শান্তিকে ব্যাখ্যা করেছেন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে। তার মতে, যদি কোনো সমাজে বৈষম্য, বঞ্চনা ও সুযোগের অসাম্য বিরাজ করে, তাহলে সেখানে বাহ্যিক শান্তি থাকলেও অন্তর্গত অশান্তি থেকে যাবে।

    আজকের বিশ্বে যখন একদিকে যুদ্ধ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংকট আমাদের বাস্তবতা, অন্যদিকে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, দুর্নীতি ও বৈষম্য আমাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা—তখন শান্তিকে কেবল সংঘাতের অনুপস্থিতি হিসেবে দেখলে হবে না। আমাদের দরকার বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি, যা শান্তিকে সংহতি, সহানুভূতি, মানবিকতা ও ন্যায়ের সাথে যুক্ত করে দেখে।

    শান্তি মানে শুধু গুলি বন্ধ হওয়া নয়, শান্তি মানে হলো একটি এমন সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ, মর্যাদাবান ও সম্মানিত বোধ করে। যেখানে কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয় না, খাদ্য নিয়ে হাহাকার থাকে না, এবং প্রতিটি শিশুর চোখে থাকে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের আভাস।

    কেন যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই

    যুদ্ধ—একটি শব্দ, যার পেছনে লুকিয়ে থাকে অগণন প্রাণহানি, রক্ত, কান্না এবং সভ্যতার অপমান। ইতিহাসে যত বড় যুদ্ধই হোক না কেন, তার সবচেয়ে স্পষ্ট, নিষ্ঠুর ও নির্মম দিকটি হলো—মানবজীবনের বিনাশ। মানবাধিকারের মৌলিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘জীবনের অধিকার’ (right to life) প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। অথচ যুদ্ধ এই অধিকারকে নিষ্ঠুরভাবে কেড়ে নেয়। বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া যুদ্ধগুলোতে কত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে—তার কোনো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান আজও নেই।

    তবে ইতিহাসবিদদের অনুমান অনুযায়ী, কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই সামরিক ও বেসামরিক মিলে প্রায় ৭০–৮০ মিলিয়ন মানুষ নিহত হয়। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে হারায় প্রায় ৩০ লাখ প্রাণ। আর রুয়ান্ডার গৃহযুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে। এভাবে একুশ শতকেও যুদ্ধের ভয়াবহতা থেমে নেই—যেখানে কোটি কোটি মানুষ অপ্রয়োজনীয় ও অমানবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।

    যুদ্ধের আরও একটি তাৎক্ষণিক ফল হলো দুর্ভিক্ষ—যা মানবিক বিপর্যয়ের এক নির্মম রূপ। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কৃষি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়, যার পরিণতিতে ঘটে ভয়াবহ খাদ্য সংকট। ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত উদাহরণগুলোর একটি হলো ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উৎপাদন সংকট ও ঔপনিবেশিক খাদ্যনীতির ফলে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন। যুদ্ধ শুধু শত্রুর ওপর আঘাত হানে না, তা সমাজের প্রান্তিক, দুর্বল ও নিরীহ মানুষদের পিষে ফেলে চিরতরে।

    আরও ভয়াবহ হলো যুদ্ধকালীন নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা। শাসকের মূল লক্ষ্য যেহেতু ‘জয়লাভ’, তাই যেকোনো পন্থায় তা অর্জন করতে নারীদের ওপর চালানো হয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নির্যাতন, অঙ্গহানি এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার—যা মানবতার সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। আমাদেরই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা প্রায় ৩ লাখ নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে। সেই ধারাবাহিকতা আজও চলমান—২০২৩-২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৫০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছে, যা যুদ্ধকে আরও ভয়ঙ্কর মানবিক সংকটে রূপ দিয়েছে।

    শান্তি মানে শুধু গুলি বন্ধ হওয়া নয়, শান্তি মানে হলো একটি এমন সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ, মর্যাদাবান ও সম্মানিত বোধ করে।

    যুদ্ধের আরেকটি গভীর ও দুঃখজনক দিক হলো সামরিক ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি। যখন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, নিরাপদ পানির অভাবে মৃত্যুবরণ করছে, তখন বিশ্ব ক্ষমতাগুলো মত্ত হয়ে আছে অস্ত্র তৈরি ও সামরিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায়।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ডকৃত ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং এটি টানা দশম বছরের মতো বৃদ্ধি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয়কারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যার সামরিক বাজেট ৮৯৫ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন (২৬৬.৮৫ বিলিয়ন ডলার), তৃতীয় রাশিয়া (১২৬ বিলিয়ন ডলার) এবং চতুর্থ ভারত, যার বাজেট ৭৫ বিলিয়ন ডলার। সৌদি আরবও রয়েছে শীর্ষ ব্যয়কারীদের তালিকায়, যার সামরিক বাজেট প্রায় ৭৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার।

    এই পরিসংখ্যান দেখে সহজেই অনুমান করা যায়—বিশ্ব আজ যেন যুদ্ধের জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে। শান্তি ও মানবিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং অস্ত্র, গোলাবারুদ, পরমাণু ও ড্রোন তৈরির প্রতিযোগিতাই হয়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার ‘অগ্রগতির’ মানদণ্ড। এদিকে বাস্তবতা অত্যন্ত করুণ।

    পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজও অনাহারে দিন কাটায়। নিরাপদ পানির অভাবে প্রতি বছর মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। শুধু আফ্রিকায়ই অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে, যেখানে প্রতিটি ডলার ব্যয় হওয়া উচিত খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে। অথচ সেই অর্থ ব্যয় হচ্ছে মানুষের ধ্বংস নিশ্চিত করতে—অস্ত্র বানাতে।

    এই অবস্থাকে আর কিছু নয়, আধুনিক সভ্যতার অসভ্য লীলাখেলা বললেই চলে। যেখানে মানবিকতা পরাজিত হয় রাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা’ নামক মোড়কে লুকিয়ে থাকা আধিপত্যবাদী মানসিকতার কাছে। এ যেন এক অজানা ভয় আর নিরাপত্তাহীনতার বৃত্তে আবদ্ধ মানবজাতির আত্মবিনাশের কাহিনি। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে—আমরা কোন সভ্যতার অংশ? যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে কী আমরা সত্যিই নিরাপদ হচ্ছি, না কি প্রতিদিনই আরও অনিরাপদ, দুর্বল ও বিভক্ত হয়ে পড়ছি?

    অতএব, যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক কিংবা ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু নয়; এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক নির্মম আক্রমণ। যুদ্ধ মানে শুধু বিজয় নয়, বরং মানবতার পরাজয়। যুদ্ধ কোনো রাষ্ট্রের, কোনো শক্তির একক অর্জন নয়—এটি একসাথে লাখো মায়ের কান্না, শিশুদের আর্তনাদ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্বপ্ন, আর মানবিকতার লাশ।

    এই প্রেক্ষাপটে, জাগ্রত বিবেককে বারবার বলতে হবে—‘কোনো যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। শান্তি মানে নীরবতা নয়; শান্তি মানে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, সংলাপ ও সহাবস্থানের পথ। যুদ্ধ নয়, আমাদের প্রয়োজন সহানুভূতির কণ্ঠ, বোঝাপড়ার সেতু, আর মানবতার পুনরুত্থান।

    ড. মো. রফিকুল ইসলাম ।। অধ্যাপক, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রাণ গ্রুপে চাকরি, নেবে ৪০০ জন

    প্রাণ গ্রুপে চাকরি, নেবে ৪০০ জন

    চাকরি ডেস্ক

    প্রাণ গ্রুপ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসিস্ট্যান্ট টেরিটরি সেলস ম্যানেজার (এটিএসএম) পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গত ১৬ মে থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রাণ গ্রুপ
    পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট টেরিটরি সেলস ম্যানেজার (এটিএসএম)
    লোকবল নিয়োগ: ৪০০ জন

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিএ/এমএসসি
    অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিস অ্যাপ্লিকেশনে (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট) এবং ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা।
    অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

    চাকরির ধরন: ফুলটাইম
    কর্মক্ষেত্র: মাঠ পর্যায়ে
    প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
    বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৩২ বছর

    কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
    বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
    অন্যান্য সুবিধা: মাসিক বিক্রয় কমিশন, বিক্রয় প্রণোদনা, আকর্ষণীয় টিএ/ডিএ প্যাকেজ, মোবাইল বিল, উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইন-হাউজ বিমা পলিসি, প্রতি বছর বেতন পর্যালোচনা, ০৬ মাস পর পদটি হবে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার (টিএসএম) এবং কোম্পানির নীতিমালা অনুসারে আরো অন্যান্য সুবিধা।

    আবেদনের শেষ সময়: ১৫ জুন ২০২৫

  • জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ

    জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ

    চাকরি ডেস্ক

    বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকল্পের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অপারেটর (কন্টেনার প্লান্ট) পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গতকাল ২০ মে থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    এক নজরে বসুন্ধরা গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
    প্রতিষ্ঠানের নাম
    বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড
    চাকরির ধরন
    বেসরকারি চাকরি
    প্রকাশের তারিখ
    ২০ মে ২০২৫
    পদ ও লোকবল
    নির্ধারিত নয়
    চাকরির খবর
    ঢাকা পোস্ট জবস
    আবেদন করার মাধ্যম
    অনলাইন
    আবেদন শুরুর তারিখ
    ২০ মে ২০২৫
    আবেদনের শেষ তারিখ
    ৩১ মে ২০২৫
    অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
    https://www.bashundharagroup.com
    আবেদন করার লিংক
    অফিশিয়াল নোটিশের নিচে
    প্রতিষ্ঠানের নাম: বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড
    পদের নাম: অপারেটর (কন্টেনার প্লান্ট)
    পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি (বিজ্ঞান)/এসএসসি (বিজ্ঞান/ ভোকেশনাল)/সমমান
    অন্যান্য যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা
    অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ বছর

    দায়িত্বসমূহঃ_
    ব্লো মল্ডিং এবং ইনজেকশন মল্ডিং মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন কন্টেইনার তৈরি করা
    কাজের ক্রমানসারে ও প্রয়োজন মত দরকারি যন্ত্রপাতি, বোল্ট এবং ক্লাম্প ব্যবহার করা
    মেশিনের তাপমাত্রা, চাপ, সময়, মল্ডিং প্রক্রিয়া, প্লাস্টিক এর পরিমান কন্ট্রোল করা এবং পি এল ছি মেশিন দেখে সুপারভাইজ কে জানানো
    নিয়ম মোতাবেক মিক্সিং মেশিনে রঙ মিশ্রিত করা এবং সঠিক রঙের ড্রাম বের হচ্ছে কিনা জানানো
    অতিরিক্ত প্লাস্টিক বাদ দেয়ার জন্যে ছুরি ব্যবহার করা

    চাকরির ধরন: ফুলটাইম
    কর্মক্ষেত্র: অফিসে
    প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
    বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

    কর্মস্থল: চট্টগ্রাম (মিরসরাই)
    বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
    অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

    আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মে ২০২৫

  • আকিজ গ্রুপে নিয়োগ ২০২৫

    আকিজ গ্রুপে নিয়োগ ২০২৫

    চাকরি ডেস্ক

    আকিজ গ্রুপ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অফিসার (অডিট ও কমপ্লায়েন্স) পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আজ ২১ মে থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও চিকিৎসা ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, দুপুরের খাবার সুবিধা, বছরে ২টি উৎসব বোনাসসহ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    এক নজরে আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
    প্রতিষ্ঠানের নাম
    আকিজ গ্রুপ
    চাকরির ধরন
    বেসরকারি চাকরি
    প্রকাশের তারিখ
    ২১ মে ২০২৫
    পদ ও লোকবল
    নির্ধারিত নয়
    চাকরির খবর
    ঢাকা পোস্ট জবস
    আবেদন করার মাধ্যম
    অনলাইন
    আবেদন শুরুর তারিখ
    ২১ মে ২০২৫
    আবেদনের শেষ তারিখ
    ৩১ মে ২০২৫
    অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
    https://www.akij.net
    আবেদন করার লিংক
    অফিশিয়াল নোটিশের নিচে
    প্রতিষ্ঠানের নাম: আকিজ গ্রুপ
    পদের নাম: অফিসার (অডিট ও কমপ্লায়েন্স)
    পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/এমবিএ
    অন্যান্য যোগ্যতা: সকল ধরণের বিল, ভাউচার, ব্যাংকিং কার্যক্রম, খতিয়ান পরীক্ষায় দক্ষতা
    অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ থেকে ৪ বছর

    চাকরির ধরন: ফুলটাইম
    কর্মক্ষেত্র: অফিসে
    প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
    বয়সসীমা: ২৮ থেকে ৩৪ বছর

    কর্মস্থল: ঢাকা
    বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
    অন্যান্য সুবিধা: চিকিৎসা ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, দুপুরের খাবার সুবিধা, বছরে ২টি উৎসব বোনাস।

    আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মে ২০২৫