
মুলাদী প্রতিনিধি
শুনা যায় অমুক অফিসের পিয়ন অমুক অফিসের দাড়োয়ান, অমুক ব্যাক্তির ল্যাংরা কর্মচারী শত শত কটি টাকা আর একাধিক বিলাশ বহুল বাড়ির মালিক। তাদের প্রতাপ আর বেপরোয়ার কাছে নাকি উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও অসহয়। সরকার তথা আইনকে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে চলে। বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের কর্মকান্ডের সুরতহাল তুলে ধরেও কোন প্রতিকার মেলেনি । তবেকি এসব চুনোপুটির কাছে খোদ সরকাকর ও অসহায় নাকি উদাসীন?
তেমনই একজন প্রতাপশালীর সন্ধান মিলেছে বরিশাল জেলার মুলাদী থানার ১ নং বাটামারা ইউনিয়নে। যদিও তিনি চৌকিদার এর দফাদার পদে ০১ নং বাটামারা ইউনিয়েনে কর্মরত আছেন। কিন্তু তিনি নিজেই বলে বেড়ান, তিনি নাকি ওসিকেও পরোয়া করেন না। তিনি হামেসাই বলে বেড়ান , আমার দুই দুইটি ভাগিনা ওসি। আমি দারোাগা-ওসির পরোয়া করিনা। এলাকার মানুষ জন তার এসব বয়ান শুনে এখন অভ্যস্ত। তার এসব বয়ানের সাথে তার কর্মকান্ডের ও মিল দেখে এলাকার মুনুষ ভীত সস্ত্রত্ব। তিনি যখন ঢাকায় বেড়াতে যান, তখনও তিনি তার ইউনিফর্ম ব্যবহার করেন। হ্যা, তিনি হলেন ১ নং বাটামারা ইউনিয়নের বাটামারা গ্রামের মজিবর দফাদার- পিতা: মৃত আঃ রাজ্জাক চৌকিদার।
গত ২৯-০৯-২০২৫ ইং তারিখে ব্যাক্তিগত কাজে মুলাদী থানার বোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় জৈনিক ব্যাক্তি এলেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে।অভিযোগের সূত্রে জানলাম, জনৈক ব্যাক্তির নাম রুহুল আমিন সিকদার, পিতা: মৃত আঃ মালেক সিকদার, বয়স ৫০ বছর। উক্ত মজিবর দফাদার এর প্রতিবেশী। জিবীকার তাগিদে স্ত্রী-সন্তান সহ ঢাকায় অবস্থান করেন। একজন দিন মজুর। উক্ত মজিবর দফদার এর সাথে তার একটি দেওয়ানী মামলা চলমান আছে। মামলা নং ৫০/২০২০। অভিযোগকারি মামলার বাদী। তার অভিযোগ ঈঝ,জঝ, ঝঅ রেকর্ড মতে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তার ৪০ বছরের পুরানো বসত বাড়ী তাহার অজ্ঞতা বসত প্রতিবেশী জমির দফাদার তাহার নিজ নামে ইঝরেকর্ড করে নেয়।
অভিযোগকারী বাদী ঢাকায় অবস্থান করায় মজিবর দফাদার বাদীর বসত বাড়ী দখলের পায়তারা করলে বাদী জেলা জজ আদালতে বিরোধীয় জমেিত নিশেধাজ্ঞা চেয়ে মিস আপিল মামলা করে । মামলা নং ১৩১/২৩। গত ২৯/০৬/২০২৫ ইং তারিখে জেলা যুগ্নজজ ৩য় আদালত উক্ত বিরোধীয় জমিতে নিষোধাজ্ঞার রায় প্রদান করেন । কিন্তু নিষোধাজ্ঞা অমান্য করে অভিযোগকারী তথা বাদীর বসত বাড়িতে মজিবর দফাদার পাকা ঘর তৈরীর
উদ্দেশ্যে গত ২৭/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ১৫/২০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে ঘর তৈরী শুরু করে। । বাদীর ১৭ টি গাছ (যাহার মূল্য প্রায় ১০০,০০০/- এক লক্ষ টাকা) কাটিয়া ফেলে এবং বাদীর পিতার কবর বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে মাটির সাথে ঢালাইয়া দেয়। খবর পাইয়া বাদী ঢাকা হইতে আসিয়া মজিবর দফাদারকে মৌখিক বাধা প্রদান করে। মজিবর দফাদার তাহার বাধা না মানিয়া তাকে প্রান নাশের হুমকি দেয়। উপায়অন্তর না পেয়ে বাদী পুলিশ বারাবর অভিযোগ দায়ের করে।
মামলা বিচারাধীন। জমির মালিকানা নির্ধারন করবেন বিজ্ঞ আদালত। এ বিষয় আমাদের মন্তব্য করার কোন অধিকার নেই। কিন্তু বিরোধীয় জমিতে নিষেধাজ্ঞা বলতে আমরা বুঝি, বিরোধীয় জমির মাটি খনন, ঘর উত্তোলন কিংবা অপসারন, বৃক্ষ কর্তন ইত্যাদী বিষয় হতে বিরত থাকা।
পুলিশের উপস্থিতে গত ৩০/০৯/২০২৫ ইং তারিখে সরজমিনে বিরোধীয় জমি তথা বাদীর বতস বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। জেলা যুগ্ন জজ ৩য় আদালত এর নিষোধাজ্ঞা অমন্য করিয়া মজিবর দফাদার এমন কর্মকান্ড করে।
স্থানীয় মানুষের সাথে উক্ত দফাদার সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে অনেকেই কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, মজিবর দফাদার কথায় কথায় মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাসানোর হুমকি দেয়। তাহারা ৮ ভাই সবসময় বলে বেড়ায় আমাদের দুই ভাগিনা ওসি। আমরা কাউকে পরোয়া করিনা।
তাহারা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজোস করিয়া বিপুল টাকা কামায়। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা উক্ত দফাদারের ছত্র ছায়ায় এলাকাকে মাদকের আখরায় পরিনত করেছে। মাদকের কারনে এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। এলাকার মানুষ তার এ সকল কর্মকান্ড এবং মাদকের হাত থেকে রক্ষাপেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানায়।
প্রসঙ্গ কথাঃ চৌকিদার/দফাদারকে মানুষ তাদের আশ্রয় স্থল মনে করে। তাদের দ্বায়িত্ব মানুষকে আইনের প্রতি শ্রোদ্ধাশীল হতে শেখানো। এলাকায় অপরাধ সয়ংঘঠিত হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির কাছে অবগত করা। কিন্তু তারা নিজেরাই যখন আইনের খেলাফ করে, আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়ায় এবং অপরাধীকে অপরাধে উৎসাহিত করে, পেশী শক্তি পদর্শন করে এবং ক্ষমতা ও যোগ্যতার উর্দ্ধে গিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে, তখন এক দিন মানুষ তার নিরাপত্তা ও আইনের প্রতি বিশ্বাস আর শ্রোদ্ধা হারিয়ে নিজের হাতেই আইন তুলে নেয়। আর তখনই সমাজে ঘটতে থাকে একের পর এক অপরাধ।



